মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন, (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা অমান্য করে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় অনুমোদনহীন রাজনৈতিক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাংবাদিক নির্যাতনের একটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এবং একটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বিদ্রুপ ও কটুক্তিমূলক মন্তব্য করে এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন নাউতারা ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি জামিনুর রহমান জীবন (৪৫)।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাউতারা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। অথচ নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সভা-সমাবেশ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে—এমন কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই প্রকাশ্যে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে একই ইউনিয়নে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ সংগ্রহকালে দৈনিক কালবেলা ও দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার দুই সাংবাদিক পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। হামলায় তারা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার রাতেই আহত সাংবাদিক মো. রেজোয়ান ইসলাম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই মামলাটি প্রত্যাহারের দাবিতেই যুবদল নেতা জামিনুর রহমান জীবন বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকারের ভাতিজা পরিচয়দানকারী একটি প্রভাবশালী চক্র এই কর্মসূচির পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলার হুকুমের আসামি আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি এসব কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদত দিচ্ছেন বলে হামলার শিকার সাংবাদিকদের অভিযোগ।
নির্বাচনকালীন সময়ে এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। মামলার বাদীর দাবি, ঘটনার বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসক মো. নায়িরুজ্জামানকে অবহিত করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃআবু তালেব, সহ-সম্পাদক : মিঠু মুরাদ,নির্বাহী সম্পাদক:মোঃসিরাজুল ইসলাম,সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ভাই ভাই প্রিন্টিং ও প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত,অফিসঃবাড়ী ১৬৫(২য় তলা),রোড:০৮ মিরপুর -১১ ঢাকা।ই মেইল :newsdigantasangbad@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত