মোঃমামুন হোসেন,ঢাকা ব্যুরো প্রধান:
সাভারের ব্যস্ততম কলেজ রোডের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের বিশাল জরাজীর্ণ ভবন। এক সময় যা ছিল উৎসব ও সামাজিক আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু, সেটিই এখন স্থানীয়দের কাছে এক বিভীষিকার নাম।
সেনা ক্যাম্পের বিপরীতে অবস্থিত এই পরিত্যক্ত ভবনটি কার্যত পরিণত হয়েছে হত্যার‘ওয়্যারহাউজে’।
গত কয়েক মাসে এখান থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত কয়েক মাসে এখান থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি মরদেহের কোনো ঘটনারই রহস্য এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। সর্বশেষ আগুনে পোড়া এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার হলেও তার পরিচয় শনাক্তে ব্যর্থ পুলিশ। এর আগে জবাই করা অর্ধনগ্ন নারীর মরদেহ এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের পচাগলা লাশ উদ্ধার হয়।
তিনটি হত্যাকাণ্ডেই নৃশংসতার স্পষ্ট আলামত মিললেও তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
২৯ আগস্ট ২০২৫ পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের পচাগলা মরদেহ। দীর্ঘ চার মাস পেরিয়ে গেলেও তার পরিচয় শনাক্ত হয়নি, উন্মোচিত হয়নি হত্যার রহস্য।
১২ অক্টোবর ২০২৫,একই ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে উদ্ধার হয় এক নারীর জবাই করা অর্ধনগ্ন মরদেহ। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে তদন্ত চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত ফল জানাতে পারেনি পুলিশ।
২০ ডিসেম্বর ২০২৫(শুক্রবার) সর্বশেষ দুপুরে ভবনের দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের আগুনে পোড়া ও অর্ধগলিত লাশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পাঁচ থেকে সাত দিন আগে তাকে
পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে প্রমাণ নষ্টের উদ্দেশ্যে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সন্ধ্যার পর অপরাধীদের অভয়ারণ্য,স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা নামলেই ভবনটি মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্রের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে জেলা পরিষদ ও পৌরসভার মালিকানা সংক্রান্ত মামলার জটিলতায় ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।আগের দুটি মামলা ডিবি পুলিশের তদন্তধীন রয়েছে,এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তরের ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো:সাইদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো অর্ধগলিত ও বিকৃত থাকায় শনাক্ত করার উপায় নেই।লাশ শনাক্ত করা গেলে আসামি গ্রেফতার সহজ হবে!প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও হত্যার পর গুমের উদ্দেশ্যে মরদেহগুলো এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় সাভার মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে পৌরসভার পক্ষে থেকে কার্যত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
এবিষয়ে জানতে পৌর প্রসাশককে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।শিক্ষার্থীদের চরম আতঙ্ক, সাভার কলেজের ঠিক সামনেই এমন একটি ‘মৃত্যুকূপ’ থাকায় সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। দিনের আলোতেও ভবনটির পাশ দিয়ে হাঁটতে ভয় লাগে বলে জানান তারা।
একের পর এক খুনের ঘটনায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের কলেজে পাঠানো নিয়েই দ্বিধায় পড়েছেন।
প্রশ্নের মুখে প্রশাসন, থানার এত কাছে থেকেও কীভাবে এই পরিত্যক্ত ভবন বারবার হত্যার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে—সে প্রশ্নের জবাব নেই।
আশঙ্কা, দ্রুত ভবনটি সিলগালা ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে এখানে আরও লাশ পড়তে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃআবু তালেব, সহ-সম্পাদক : মিঠু মুরাদ,নির্বাহী সম্পাদক:মোঃসিরাজুল ইসলাম,সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ভাই ভাই প্রিন্টিং ও প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত,অফিসঃবাড়ী ১৬৫(২য় তলা),রোড:০৮ মিরপুর -১১ ঢাকা।ই মেইল :newsdigantasangbad@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত