হারুন শেখ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে কেয়ার বাংলাদেশ-এর আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চা ও শিখন বিনিময় মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন ও দক্ষ করে তোলাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজনগর ইউনিয়নের দিঘির পাড় মাঠে আয়োজিত এ শিখন বিনিময় মেলায় ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা অংশগ্রহণ করেন। মেলায় মোট ১০টি স্টলের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও জীবিকাভিত্তিক নানা উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয়। স্টলগুলোতে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণে ব্যবহৃত আধুনিক বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, লবণ সহিষ্ণু বীজ, উন্নত চুলা, সৌরচালিত সেচ পাম্প ও এ্যারেটর, অ্যাডাপটিভ কিচেন গার্ডেন, জলবায়ু সহনশীল ও প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেট, ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার, বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং গৃহপালিত পশুপালনসহ বিভিন্ন জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়।
এছাড়াও একটি বিশেষ স্টলে কার্যকর জলবায়ু ও আবহাওয়া তথ্য পরিষেবা বুথ স্থাপন করা হয়। সেখানে আগত কৃষকদের নিবন্ধনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কেয়ার বাংলাদেশের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
সিনিয়র উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছা. সুলতানা পারভীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুমন সরকার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মহিদুর রহমান, রাজনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জালিনুর হাজরা ও ইউপি সদস্যবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান, কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল আমিন, আইডিই বাংলাদেশ-এর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট অফিসার জহিরুল ইসলাম, ডিএসকে ও সিএনআরএস-এর প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুল সংখ্যক কৃষক।
অনুষ্ঠানে কেয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “কেয়ার বাংলাদেশ খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে কৃষি চর্চা ও শিখন বিনিময় কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রাজনগর ইউনিয়নে এই আয়োজন করা হয়েছে, যা নবপল্লব প্রকল্পের আওতায় ব্যবহৃত আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের পরিচিতি বাড়াবে।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মহিদুর রহমান বলেন, “শিখন বিনিময় মেলায় বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও আগ্রহের সঙ্গে প্রদর্শনীগুলো ঘুরে দেখছে এবং নতুন বিষয় সম্পর্কে শিখছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, “নবপল্লব প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চা প্রদর্শনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছা. সুলতানা পারভীন বলেন, “কৃষিখাতকে কীভাবে সম্প্রসারিত ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর করা যায়—তা এই শিখন বিনিময়ে বাস্তবভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমি আগত সকল কৃষককে এসব প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার আহ্বান জানাই।”
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃআবু তালেব, সহ-সম্পাদক : মিঠু মুরাদ,নির্বাহী সম্পাদক:মোঃসিরাজুল ইসলাম,সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ভাই ভাই প্রিন্টিং ও প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত,অফিসঃবাড়ী ১৬৫(২য় তলা),রোড:০৮ মিরপুর -১১ ঢাকা।ই মেইল :newsdigantasangbad@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত