
বিশেষ প্রতিনিধি,কামরুল ইসলাম:
এই নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শৃঙ্খল ভাঙতে এ দেশের ছাত্র-জনতা যে অকাতরে রক্ত দিয়েছে, সেই আত্মত্যাগের সার্থকতা আজ একটি সুতোয় ঝুলে আছে।
তিনি আরও বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা কি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়তে পারব, নাকি আমাদের অভ্যন্তরীণ অনৈক্য ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত করবে—তা এখন বড় প্রশ্ন।
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ও নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি বলেন, বর্তমান নির্বাচনী উত্তাপ ও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা আমাদের গভীর উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান শর্ত হলো ভয়হীন পরিবেশ। কিন্তু বর্তমান নির্বাচনী প্রচারণায় পুরনো আধিপত্যবাদী ও সংঘাতময় আচরণের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন না এলে কেবল বন্দুকের নল বা বুটের শব্দ দিয়ে এই আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত থামানো সম্ভব নয়।
সাবেক ছাত্রনেতা ইলিয়াস হোসেন মাঝি আরও বলেন, এই নির্বাচনী অস্থিরতা কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই নয়; বরং এর পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্ত সক্রিয় রয়েছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে ন্যূনতম সৌহার্দ্য ও আদর্শিক ঐক্য বজায় রাখা এখন বিকল্প নয়, বরং একমাত্র পথ।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট কেবল ক্ষমতা বদলের পালা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের একটি বড় পরীক্ষা।
শেষে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জয়-পরাজয় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না; বরং তা নির্ধারণ করবে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি কেমন হবে। ক্ষমতার মোহ যদি আমাদের বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং আমরা নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষরণে লিপ্ত হই, তবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের অপরাধী হিসেবে দাঁড়াতে হবে।