মোঃমামুন হোসেন,ঢাকা ব্যুরো প্রধান:
আজ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের অন্যান্য আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) সংসদীয় আসনেও সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা ও গ্রামীণ জনপদের সমন্বয়ে গঠিত এই আসনে ভোটকে ঘিরে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা। কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান এবং ভোটারদের দীর্ঘ লাইন নির্বাচনী পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটারদের সারি দেখা যায়। সাভারের একটি কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, “আমি ভোরেই চলে এসেছি। ভোট আমার অধিকার। আমরা চাই এমন একজন প্রতিনিধি, যিনি সংসদে গিয়ে এলাকার সমস্যা নিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।” তিনি বলেন, সড়ক উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এই আসনের বড় চাহিদা।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার পোশাক শ্রমিক নাসরিন আক্তার বলেন, “আমরা কারখানায় কাজ করি, সময় বের করা কঠিন। তবু ভোট দিতে এসেছি, কারণ আমাদের জীবনের সঙ্গে সংসদের সিদ্ধান্ত জড়িত।” তার মতে, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও বাসাভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
শিল্পাঞ্চল হওয়ায় ঢাকা-১৯ আসনে শ্রমিক ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জিরাবো এলাকার বাসিন্দা ও গার্মেন্টস কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই স্থিতিশীল পরিবেশ। আন্দোলন-সংঘাত হলে আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান টেকসই রাখতে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।
নারী ভোটারদের উপস্থিতিও লক্ষণীয়। সাভার পৌর এলাকার গৃহিণী শারমিন সুলতানা বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারছি, এটা ইতিবাচক দিক। আমরা চাই এলাকার নিরাপত্তা বাড়ুক, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমন হোক।” তার মতে, নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে তরুণ ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে আগ্রহ। সাভার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, “প্রথমবার ভোট দিচ্ছি। আমরা চাই যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব। শুধু পোস্টার-ব্যানার নয়, বাস্তব কাজের ভিত্তিতে ভোট দিচ্ছি।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা তরুণদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলেও জানান তিনি।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আনসার ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। এক প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, “এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছেন।” ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে কিছু কেন্দ্রে ধীরগতির অভিযোগও শোনা গেছে। আশুলিয়ার এক ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সকালে কিছুটা ধীরগতি ছিল, তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা-১৯ আসনে শহর ও গ্রামের মিশ্র ভোটার গঠন ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। উন্নয়ন, যানজট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ—এসব ইস্যু ঘিরেই ভোটারদের আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে।
সাভারের এক ব্যবসায়ী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “আমরা চাই এমন পরিবেশ, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে এলাকায় বিনিয়োগ বাড়বে।” তার মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি যেন নিয়মিত জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
সব মিলিয়ে ঢাকা-১৯ সংসদীয় আসনে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটারদের প্রত্যাশা—তাদের ভোট যেন সঠিকভাবে গণনা হয় এবং যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। দিন শেষে ভোটের ফলাফল যাই হোক, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণই এই আসনের মানুষের বড় পাওয়া।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃআবু তালেব, সহ-সম্পাদক : মিঠু মুরাদ,নির্বাহী সম্পাদক:মোঃসিরাজুল ইসলাম,সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ভাই ভাই প্রিন্টিং ও প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত,অফিসঃবাড়ী ১৬৫(২য় তলা),রোড:০৮ মিরপুর -১১ ঢাকা।ই মেইল :newsdigantasangbad@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত