
মোঃ নূরেআলম রায়হান: কেরানীগঞ্জ. ঢাকা
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জাল দলিল, ভুয়া নামজারি ও সরকারি নথিপত্র কারচুপির মাধ্যমে শত শত মানুষের জমি আত্মসাৎ এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে মো. আক্তার হোসেন ও তার ছেলে মো. রিপন মিয়ার নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা (বাইস)-এর মহাসচিব মুহাম্মদ শাহজাহান সম্রাট এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কুমলী ভিটা গ্রামের মৃত খেজমত আলীকে জীবিত দেখিয়ে ২০০৮ সালে ১৩১৬৮ নম্বর একটি জাল দলিল তৈরি করা হয়, যদিও তিনি ১৯৯৮ সালেই মারা যান। একইসঙ্গে বিভিন্ন খতিয়ান ও দাগে প্রকৃত পরিমাণের কয়েক গুণ বেশি জমি বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আক্তার হোসেনের ছেলে রিপন মিয়া, যিনি রোহিতপুর ভূমি অফিসে কর্মরত, ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় ভুয়া নামজারি ও সরকারি নথি জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেন।
এ ছাড়া প্রবাসী দুই স্বজন মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মো. আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা নেওয়ার পরও জমির দখল বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। কুমলী ভিটা গ্রামের আরও অনেক সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকেও জমি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জালিয়াতির প্রতিবাদ করায় এক বিসিএস পরীক্ষার্থী মো. রমজান আলীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।