ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বৈশাখের প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে তীব্র লোডশেডিং জনজীবন স্থবির করে দিয়েছে। দিনে-রাতে আট থেকে দশ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ বার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছেন না। সরকারি হাসপাতালসহ বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বোরো আবাদ ও সবজি খেতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলম বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে গ্রামের পাশাপাশি পৌর এলাকার গ্রাহকরাও মোফস্বল লাইন থেকে বিদ্যুৎ পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ধানক্ষেতে নিয়মিত পানি সরবরাহ না হওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা করছেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। ডিজেল সংকটে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। গরম ও লোডশেডিংয়ে পোলট্রি ও গবাদি পশুর খামারেও উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা।
ছাপাখানা, কম্পিউটার কম্পোজ, ফটোকপি ও ডিজিটাল সাইনের দোকানদাররা হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন। এটিএম বুথে লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। দিনমজুর, রিকশাচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষ হাপিয়ে উঠেছেন।
উপজেলা সদরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোথাও কোথাও দিনে-রাতে অন্তত ১২ থেকে ১৪ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেখা দিচ্ছে স্থবিরতা। বাসাবাড়িতে পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। গৃহস্থালি কাজে সমস্যা, দিনমজুর, রিকশাচালকসহ নানা পেশার খেটেখাওয়া মানুষ হাপিয়ে উঠছেন।
এদিকে শুরু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের শঙ্কা, লোডশেডিং এভাবে চললে পরীক্ষার হলেও স্বস্তি পাবে না পরীক্ষার্থীরা।
পৌর এলাকার পূর্ব বড়ালী গ্রামের বাবুল গাজী, জাহাঙ্গীর হাজী ও মনির হোসেনসহ কয়েকজন গ্রাহক বলেন, ‘আমরা পৌর সদর এলাকার বাসিন্দা হলেও আমাদের বিদ্যুতের লাইন দেওয়া হচ্ছে মোফস্বল এলাকার লাইন থেকে। এতে আমরা গড়ে আট থেকে দশ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। বাকি ১২ থেকে ১৪ বার লোডশেডিং হয়। বিদ্যুৎ নিয়ে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
কবিরূপসা এলাকার কাউসার আহমেদ বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা তোয়াক্কা করছে না।’
রূপসা এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ধান গাছের শিষ বেরিয়েছে কয়েক দিন আগে। এই সময়ে জমিতে নিয়মিত পানি প্রয়োজন, কিন্তু বিদ্যুৎ গেলে আর আসে না। জমিতে নিয়মিত পানি না দিলে ফলন অনেক কমে যেতে পারে। জ্বালানি তেলের সংকটের কারণেও ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আরিফুর রহমান নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবকসহ কয়েকজন জানান, গত মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে।
হাসিবুল ইসলাম, আব্দুল কাদির ও সাবিনা আক্তারসহ কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা ঠিকমতো পড়তে পারছি না এবং ঘুমাতেও পারছি না।’
মাসুদ আলম নামের এক পোলট্রি খামারি বলেন, একদিকে বৈশাখের তীব্র গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং। এভাবে চলতে থাকলে পোলট্রি খামারেও উৎপাদন হ্রাস পাবে।’ একই কথা জানিয়েছেন গবাদি পশুর খামারি ফারুক আহমেদ।
লোডশেডিংয়ের কারণ, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ও চাহিদা অনুযায়ী কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন এসব প্রশ্নের জবাবে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলমের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এর আগে দুবার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, আমাদের কাজই হচ্ছে জনগনকে সেবা দেওয়া। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয়ে কথা বলবো।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃআবু তালেব, বার্তা সম্পাদক:মোঃ মামুন হোসেন ,নির্বাহী সম্পাদক:মোঃসিরাজুল ইসলাম,সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ভাই ভাই প্রিন্টিং ও প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত,অফিসঃবাড়ী ১৬৫(২য় তলা),রোড:০৮ মিরপুর -১১ ঢাকা। অফিসঃ০১৬০২৮১৫৩৮৯, ই মেইল :newsdigantasangbad@gmail.com।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত