
হিমালয়ের পাদদেশঘেঁষা উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে শীতের দাপট ক্রমেই বাড়ছে। জানুয়ারির শুরুতেই কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়ার তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌষের মাঝামাঝি সময় থেকে উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসা এই শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা যোগ হওয়ায় ঠান্ডার তীব্রতা আরও বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে করে তুলছে চরম দুর্ভোগের।
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোরের আগেই দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তীব্র ঠান্ডায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। সড়ক ও হাটবাজারে মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বিশেষ করে খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হওয়ায় দিনমজুর ও রিকশাচালকদের কাজে যেতে না পারায় তাদের আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ, ফলে ঠান্ডার তীব্রতা আরও বেড়ে গিয়ে শীতের অনুভূতি বেশি প্রকট হয়।
সহজপুর গ্রামের বাসিন্দা হাতেম আলী বলেন, “কনকনে ঠান্ডায় শরীর যেন অবশ হয়ে আসছে। ভোর থেকে হাড় কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে ঘর থেকে বের হওয়াই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।” অন্যদিকে দিনমজুর আনিস বলেন, “এই প্রচণ্ড শীতে কাজ করা ভীষণ কষ্টের। ঠান্ডায় হাত-পা ঠিকমতো নড়ে না, তবু পেটের দায়ে কাজে বের হতে হয়। কাজ না করলে সংসার চালানোই অসম্ভব।”
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিললেও শীত কমেনি। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে শৈতপ্রবাহ ধরা হয়। কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস ও আর্দ্রতার কারণে জনজীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।