
বিশেষ প্রতিনিধি : কামরুল ইসলাম
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর পরিচালিত অভিযানে আনুমানিক ছয় কোটি টাকা মূল্যের দুই লক্ষ (২,০০,০০০) পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খারাংখালী বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৪ হতে প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে এবং বিওপি হতে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মৌলভীবাজার এলাকার ইলিয়াসের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে অবস্থান নেয়।
পরদিন ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ৩টায় টহল দল চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে। বিজিবি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে মাদক চোরাকারবারীরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে বিজিবি এক রাউন্ড পাল্টা গুলি ছোড়ে। বিজিবির প্রতিরোধের মুখে চোরাকারবারীরা সাঁতরে পুনরায় মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে নীল রঙের দুটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে স্কচটেপে মোড়ানো খাকি রঙের বায়ুরোধী ২০টি কার্টন, মোট দুই লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তল্লাশি সত্ত্বেও এ সময় অন্য কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
এলাকায় পলাতক চোরাকারবারীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে চিরুনি অভিযান চালানো হলেও রাতের অন্ধকারে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, জি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“পালিয়ে যাওয়া মাদক চোরাকারবারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি আরও বলেন,বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের আওতাধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক দমন ও অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে আসছে।