
মোঃ সামিউল ইসলাম,আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ২৫৩টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে।
এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৩০টি আসনে, যার একটি ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসন।
এই আসনে পূর্বঘোষিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন এর পরিবর্তে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলকে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট।
শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জোটের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ভোটের মাঠে জনপ্রিয় জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মাদ আফজাল হোসাইন সংগঠনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারন ভোটারদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর শক্ত অবস্থান থাকলেও ভোটের মাঠে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন তার ব্যাপক তৎপরতায় ইতিমধ্যে ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
তার জনপ্রিয়তায় এই আসনের ভোটাররা উদ্বুদ্ধ হয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
অন্যদিকে এনসিপি মনোনীত দিলশানা পারুল এই আসনে একেবারেই নতুন মুখ। এর আগে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তারাশ) আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেখানে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জামায়াতের তুলনায় এনসিপির এই প্রার্থী ভোটের মাঠে একেবারেই দুর্বল বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, প্রার্থীতার বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে সাংগঠনিক কোনো নির্দেশনা পাইনি। যেহেতু ২০ তারিখ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন, তাই সংগঠনের নির্দেশনার অপেক্ষা করব। সংগঠনের প্রতি আমরা আনুগত্যশীল। সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোনোর চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। সবাইকে ধৈর্যধারণ করার পরামর্শও দেন তিনি।
এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রেখে বলেন, জেনে বুঝে আমার এ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
পার্টি থাকলে পলিটিক্স দাড়াবে। এনসিপির আত্মবিশ্বাসের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। এছাড়াও দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে তিনি অনিহা প্রকাশ করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ব্যপক সমালোচনার ঝর উঠেছে। জোটের এই সিদ্ধান্তের পর Joy Ahmed নামে একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ঢাকা ১৯ ও ২০ বিএনপি প্রার্থীকে অগ্রিম শুভেচ্ছা!Razaul Islam Akando লিখেছেন, ঢাকা -১৯ দারিপাল্লা ছাড়া অন্য কোনো মার্কা আসলে ভোট কেন্দ্রে জামু না, কেউ আনুগত্যের দোহাই দিতে আইসেন না দয়া করে।
এছারাও Nahid Al Gonim এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কমেন্টে লিখেছেন, এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।
Naeem Abrar এ বিষয়ে কমেন্টে লিখেছেন, এনসিপি প্রার্থীকে ১৯ আসনে ৯৯% মানুষ চিনেই না।Jowel Ahammed Sozan কমেন্টে লিখেছেন, NCP ভাইয়াদের বলবো তোমরা এখানে নির্বাচনে আসলে কোনো ফায়দা হবে না।
তোমাদের বিন্দু মাত্র দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং মানবতাবোধ থাকলে দয়া করে জামায়াতে ইসলামীকে সাপোর্ট দেওয়া উচিৎ।
দয়া করে সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করো।
Forhad Hossain Fahim কমেন্টে লিখেছেন, “ঢাকা ১৯ আর ২০ এ এনসিপির দুইজনেই হারবে। জামায়াতের একদম ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জামায়াতের প্রার্থীরা ভালোই ফাইট দিতে পারতো কিন্তু এখন আর কিছুই করতে পারবে না। ফলাফল একদম জিরো আসবে।
Mohammad Shafiq Khan কমেন্টে লিখেছেন, এই আসনে জামায়াত প্রার্থী জেতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।
গোলাম রাব্বি তার কমেন্টে লিখেছেন, আফজাল হোসাইন পুরো সাভার-আশুলিয়ায় গেছে, আর এই পারুলকে কেউ চিনেও না। এমন আলোচনা সমালোচনায় মুখর সাভার-আশুলিয়ার পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসন নিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতবাক ঢাকা-১৯ আসনের সর্বস্তরের জনগন।
দীর্ঘদিন ধরে নিজের নির্বাচনী প্রচারনা চালানোর পর জোটের এমন সিদ্ধান্তে জামায়াত প্রার্থী আফজাল হোসাইন বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহবান জানালেও, তার ধৈর্যের প্রশংসা ও জোটের সিদ্ধান্তকে বিপদজনক বলে মন্তব্য করেছেন সাধারন জনগন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মাঠে আবেগ চলেনা, মাঠের বাস্তবতায় সঠিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া উচিত।