
মোহাম্মদ শাহিন মিয়া, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে এসে প্রকৃতি ধারণ করেছে রুদ্রমূর্তি।
মাথার ওপর আগুনের গোলার মতো তপ্ত রবি বা সূর্য যেন তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়ছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ আর কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠছে এই অসহনীয় গরমে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তপ্ত রোদে মাঠের কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লান্ত শরীরে অনেক কৃষককে দেখা গেছে মাঠের ধারের গাছের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতে।
ঘামে ভেজা শরীরে একটু বাতাসের আশায় তারা দীর্ঘ সময় বিশ্রাম নিচ্ছেন। মাঠের ফসল পরিচর্যা করতে গিয়ে রোদের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম অনেকেরই।
শহর ও গ্রামগঞ্জের বাজার-বন্দরগুলোতে একই চিত্র। রিকশা চালক, ভ্যান চালক এবং দিনমজুরদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। জীবিকার তাগিদে তপ্ত পিচঢালা রাস্তায় নামলেও রোদের ঝাপটায় তারা বেশিক্ষণ টিকতে পারছেন না। একটু প্রশান্তির আশায় এসব খেটে খাওয়া মানুষ ছুটছেন রসালো ফলের দোকানে।
বাজারে এখন মৌসুমি ফল তরমুজ ও বাঙ্গির সরগরম উপস্থিতি। তৃষ্ণা মেটাতে সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষ কিনে নিচ্ছেন এই ফলগুলো।
এছাড়া রাস্তার মোড়ে মোড়ে আখের রসের কলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এক গ্লাস ঠান্ডা আখের রস পান করে অনেকেই নিজের প্রাণ জুড়াচ্ছেন।
একজন রিকশা চালক জানান, “চৈত্রের এই রোদ যেন রিকশা চালানো তো দূরের কথা, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাই দায়।
চিকিৎসকরা এই গরমে প্রচুর পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে হিটস্ট্রোক বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি এড়ানো যায়।
চৈত্রের এই দহন থেকে মুক্তি পেতে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই, মহান আল্লাহতালা রহমতের বৃষ্টি এনে দিতে পারে প্রশান্তি, বলেন খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ এবং সর্বস্তরের জনতা।