
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাট এলাকা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘বারুণী স্নান’ বা ‘গঙ্গা স্নান’ উপলক্ষে পদ্মা-যমুনার মিলনস্থলে নেমেছে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ঢল।
ভোরের আলো ফোটার আগেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
ভক্তি ও বিশ্বাসের অবগাহন
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরের এই বিশেষ তিথিতে গঙ্গা স্নান করলে অতীতের সকল পাপ মোচন হয় এবং পুণ্য লাভ করা যায়।
এই ধর্মীয় বিধান পালন করতেই প্রতিবছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ সহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল বয়সের ভক্তরা আরিচা ঘাটে সমবেত হয়েছেন।
স্নান শেষে তারা দেশ ও দশের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।
ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন
স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে নদীর পাড় ঘেঁষে বসেছে বিশাল এক গ্রামীণ মেলা। মেলার প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কুমোরদের নিপুণ হাতে তৈরি মাটির রঙ-বেরঙের হাঁড়ি-পাতিল ও মাটির পুতুল। ছোট শিশুদের জন্য মেলায় উঠেছে নানা রকম খেলনা। এছাড়াও আছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সেই চিরচেনা বাহারি সব খাবার,মেলার খাবারের দোকানগুলোতে সাজানো রয়েছে,গরম গরম জিলাপি, আমৃতি, সন্দেশ ও মিষ্টি।
চিনি ও ছাঁচে তৈরি রঙিন হাতি, ঘোড়া, পুতুল ও সাজ,বাতাসা, বিন্নি, খই, মুড়ি ও খোরকি,
জিভে জল আনা ঝালমুড়ি, চানাচুর, বারভাজা, চটপটি ও ফুচকা।
বিনোদনের জোয়ার
পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি মেলার উৎসবে মেতেছে সাধারণ দর্শনার্থীরাও। শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলায় বসানো হয়েছে বিশালাকার নাগরদোলা ও চড়কি।
যমুনা ও পদ্মার তীরের এই আনন্দঘন পরিবেশে যেন এক উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে,মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এই মেলা তাদের সংস্কৃতির একটি বড় অংশ, যেখানে মানুষের মধ্যে এক সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
হাজার হাজার মানুষের এই ভিড় সামাল দিতে এবং উৎসব নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা ঘাটে স্নানরত ভক্তদের নিরাপত্তায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।