
বিশেষ প্রতিনিধি,কামরুল ইসলাম:
কক্সবাজার–৪(উখিয়া–টেকনাফ) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এই আসনে প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের সাবেক সংসদ সদস্য জনাব শাহজাহান চৌধুরী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যাপক মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী এবং হাতপাখা প্রতীকের মাওলানা নুরুল হক। ফলে আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াই হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি। চায়ের দোকান, বাজার, সামাজিক আড্ডা ও মসজিদকেন্দ্রিক আলোচনায় প্রার্থীদের অতীত ভূমিকা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
এলাকাবাসীর একটি অংশ মনে করছেন, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে শাহজাহান চৌধুরীর পরিচিতি ও পূর্বের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ধানের শীষ প্রতীকের জন্য বাড়তি শক্তি যোগাতে পারে। অন্যদিকে, ধর্মীয় ও নৈতিক রাজনীতির বার্তা, সাংগঠনিক শক্তি এবং নতুন ভোটারদের সমর্থনের কারণে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী এ নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে মত অনেকের।
বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অনেকের মতে, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের তুলনায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা নুরুল হকও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। যদিও মূল লড়াইয়ে তিনি পিছিয়ে আছেন বলে আলোচনা থাকলেও, তার প্রাপ্ত ভোট শেষ পর্যন্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, কক্সবাজার–৪ আসনের নির্বাচন ফলাফল নির্ভর করবে ভোটারদের উপস্থিতি, শেষ সময়ের প্রচারণা, প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। এখন অপেক্ষা কেবল ভোটের দিনের—ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেন, সেটিই নির্ধারণ করবে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের ভবিষ্যৎ প্রতিনিধি