
উখিয়া–টেকনাফ, কক্সবাজার,কামরুল ইসলাম:
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে মাদক পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এই দুই উপজেলায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলছেন না। বরং একটি প্রভাবশালী অংশ অভাবশালী ও প্রভাবহীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আশ্রয় দিয়ে ইয়াবা কারবারকে পরোক্ষভাবে টিকিয়ে রাখছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই বিপদ। সাধারণ মানুষ কিংবা সচেতন নাগরিকরা কোনো অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা কিংবা অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়, এমনকি বাস্তব ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ভয়ের পরিবেশে অনেকেই নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এখানে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতিবাদকারীদেরই আসামি বানানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, উখিয়া–টেকনাফের সীমান্ত পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে মাদক কারবারিরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ইয়াবা পাচারের রুট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নাম সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা খুব কমই দেখা যায়।
সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। এতে করে সমাজে অপরাধের সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করছে এবং যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—অভিযান থাকলে কেন একই এলাকায় বারবার একই অভিযোগ উঠে আসছে?
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কেউই সামনে এসে কথা বলবে না। তাদের মতে, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি।
উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ চান—মাদকমুক্ত সীমান্ত, নিরাপদ সমাজ এবং এমন একটি পরিবেশ, যেখানে সত্য বলার জন্য কাউকে আর ভয় পেতে না হয়।