
মোঃনূরেআলম রায়হান : কেরানীগঞ্জ ( ঢাকা)
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাস, হত্যা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ আমান।
সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন শাক্তা ইউনিয়নের ওয়াশপুর এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনী গণসংযোগকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান আরোও বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করতে রাতের অন্ধকারে এখনও সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা ও সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “যারা ভোট ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারাই সন্ত্রাস ও হত্যার রাজনীতিকে হাতিয়ার বানিয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে ভয় দেখানো হচ্ছে, লাশ ফেলে রাজনীতি করার চেষ্টা চলছে।”
সম্প্রতি হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “হাসান মোল্লার রক্ত আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দিয়েছে—নির্বাচন ঠেকাতে একটি চক্র কতটা মরিয়া।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিচার না হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই সহিংসতার একমাত্র লক্ষ্য ভোটারদের আতঙ্কিত করা, ভোটকেন্দ্র ফাঁকা করা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যর্থ করা। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—রক্ত ঝরিয়ে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। দেশের মানুষ বহু বছর ধরে তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জনগণের এই মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে।”
নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে—জনগণই তার প্রমাণ দেবে। কেরানীগঞ্জের জনগণ আমাকেই ভোট দিবে এবং ইনশাআল্লাহ আমি জয়যুক্ত হয়ে ফ্যাসিস্ট শাসনামলের ১৭ বছরের পিছিয়ে পড়া কেরানীগঞ্জকে আবারও এগিয়ে নিয়ে যাব।”
উক্ত গণসংযোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা মডেল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী মো. শামিম হাসান, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জানে আলম সুমন, শাক্তা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহসিন মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, সাবেক শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান খান, মিজানুর রহমান। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মো. খোকন, যুবদল নেতা মাসুদ রানা, লোকমান, আলমাস, মামুনসহ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
গণসংযোগকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান।নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠুও নিরপেক্ষ রাখার জন্য প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।