
মোঃ নূরেআলম রায়হান,কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার কেরানীগঞ্জে রাতের আঁধারে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার প্রবণতা থামছে না। উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও অবৈধভাবে মাটি কাটার এই কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, মাটি চুরির সঙ্গে এলাকার একাধিক ইটভাটার মালিক জড়িত। সম্প্রতি মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কেবিএম ইটভাটার মালিক আব্দুল জব্বারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তাঁকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১৩ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে আগামী ২৮ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তেঘরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল জব্বার ও করেরগাঁও এলাকার প্রভাবশালী নেতা গাজী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে কৃষিজমি ও সরকারি খাসজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা করেছে। সম্প্রতি মাটি চুরির সময় তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাটি চুরির মূলহোতা হিসেবে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে গাজী মো. জাহাঙ্গীরকে। সরকারি বাদী হয়ে মামলা দায়ের হলেও তিনি এখনো গ্রেপ্তার হননি এবং এলাকায় নিয়মিত ঘোরাফেরা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। মাটি কাটার কারণে আশপাশের জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে কেবিএম ইটভাটার মালিক আব্দুল জব্বারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক বলেন, ফসলি জমির মাটি চুরি রোধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সম্প্রতি একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েকজন ইটভাটার মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।