
কেএম জহুরুল হক ফুলছড়ি প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় রহিমা আক্তার শিল্পী (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সোলেয়মান (৫৫) এর বিরুদ্ধে। জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ কল পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্দিয়া কুড়ারবাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নিহত রহিমা আক্তার শিল্পী উদাখালী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের অবিজল মুন্সীর দ্বিতীয় কন্যা এবং স্বামী সোলায়মানের দ্বিতীয় স্ত্রী।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সোলায়মান পরপর তিনটি বিয়ে করেন এবং দীর্ঘদিন থেকে দ্বিতীয় বউ শিল্পীর সাথে পারিবারিক ভাবে কোলাহ চলে আসছে। অভিযুক্ত সোলেয়মান এর বিরুদ্ধে ইতপূর্বেও থানার নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের রয়েছে এবং একাধিকবার স্থানীয় শালিশের মাধ্যমে পারিবারিক কোলহ মিমাংসা করা হয়।
নিহতের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৪)বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার মাকে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারপর থেকে পরদিন শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আমি এবং আমার ভাই দেখা করতে চাইলেই আমার বাবা এবং পরিবারের লোকজন ঘর তালাবদ্ধ রাখে এবং ঘরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নি। এরপর শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন তার বাবা সোলায়মান ও অন্যরা ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার মাকে নিচে নামাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে তার আরও দুই সৎ মা উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। নিহতের ছেলে ধারণা করছেন তার মাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার পরপরই তার বাবা সোলেয়মান পলাতক রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে রহিমা আক্তার শিল্পী বাড়ি ছেড়ে ময়মনসিংহে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে সেখান থেকে তার স্বামী সোলেয়মান তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মোহাম্মদ আলি বাদী হয়ে ফুলছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুরুল হোদা জানায়, আমরা সুরুতহাল রিপোর্ট আমরা ধারণা করছি তার স্বামীর সাথে পারিবারিক কলোহ এর কারণেই তার স্বামী তাকে হত্যা করেছে। তবে পোস্ট মর্টেম এর রিপোর্ট পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।