
মোঃ নাঈম উদ্দীন,স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।
‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।
আজ (১০ মার্চ ২০২৬) মঙ্গলবার সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও দুর্যোগকালীন জীবন রক্ষাকারী এক বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আশফাকুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন,
“বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তন ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়। তাই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা ও প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষ সাধারণত আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা জনসাধরণকে শেখানোই এই দিবসের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি চৌকস দল ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক এক বাস্তবধর্মী মহড়া প্রদর্শন করে। মহড়ায় দেখানো হয়:
ভূমিকম্পকালীন সুরক্ষা: ভূমিকম্পের সময় ভবন থেকে বের হওয়ার সঠিক উপায় এবং নিরাপদ আশ্রয়ের কৌশল।
অগ্নি নিয়ন্ত্রণ: উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
উদ্ধার অভিযান: বহুতল ভবনে আটকে পড়া ব্যক্তিদের রশি ও মই ব্যবহার করে সাহসিকতার সাথে উদ্ধার করার দৃশ্য।
জরুরি চিকিৎসা: আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে বা হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন।
উপস্থিত দর্শকরা জানান, এ ধরনের মহড়া সরাসরি দেখার ফলে দুর্যোগের সময় করণীয় সম্পর্কে তারা একটি পরিষ্কার ও বাস্তব ধারণা লাভ করেছেন, যা ভবিষ্যতে জীবন রক্ষায় সহায়ক হবে।