1. news@digantasangbad.online : দৈনিক দিগন্ত সংবাদ : দৈনিক দিগন্ত সংবাদ
  2. info@www.digantasangbad.online : দৈনিক দিগন্ত সংবাদ :
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইয়াবা বিক্রির সময় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ গ্রেপ্তার প্রাইভেটকারে অভিনব কৌশলে মা’দক পরিবহন, র‍্যাবের অভিযানে ২১১ বোতল উইন কোরেক্সসহ আটক ২ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন আজ বিশ্ব মা দিবস আমতলীতে সিএনজি চালকদের সংবাদ সম্মেলন: চাঁদাবাজি বন্ধ ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধের দাবি কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের পুকুরে ডুবে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ​অ্যালবাট্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেডিকেল ক্যাম্পেইনঅনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অটো চালকদের অবরোধ নওগাঁয় ডিবির পৃথক অভিযানে আটক-২ কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নিশাদ, সাধারণ সম্পাদক নওশাদ

রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য উর্ধগতি সাধারণ জনগণের নাগালের বাহিরে

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

 

মো:নূরেআলম রায়হান :

রমজান আসলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্য পণ্য চড়া দামে বিক্রি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে জীবনযাত্রার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। একটি পরিবার কীভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনকে নির্বাহ করবে তা নির্ভর করে তাদের আয়, চাহিদা ও দ্রব্যমূল্যের ওপর। প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের মূল্য যখন সহনীয় পর্যায়ে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তখন তাদের জীবন কাটে স্বস্তিতে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যখন সাধারণ মানুষের আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যায়, তখন দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারে শুরু হয় অশান্তি। এবার রাজধানীর মুরগির বাজার যেন লাগামছাড়া! একদিনের ব্যবধানে রেকর্ড গড়ে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে কেজি ঠেকেছে ২৪০ টাকা এবং কাটা মুরগী ৬০০ টাকা। এর উত্তাপ আবার ছড়িয়েছে ডিমের বাজারেও। এ ছাড়া বাজারে অন্যান্য মাংসের দামও বাড়তি। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। ঊর্ধ্বগতির দিকে রয়েছে চাল, ডাল, আটা, ময়দা ও সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য। রমজান এলেই চিনি, খেজুর, ছোলা, তেলের মতো কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

রমজান আসলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নড়েচড়ে বসে । কিন্তু সহজে বাজার নিয়ন্ত্রণের কাজটিও সময়মতো করা হয়ে ওঠে না। তাই রমজান এলেই বাজারের পাগলা ঘোড়া আরও জোরসে ছোটে। সরকার যদি আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়, রমজানের বাড়তি চাহিদা বিবেচনা করে আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ ঠিক রাখে, তা হলে হয়তো পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এদিকে আসন্ন রমজান মাস মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। রমজান মাসে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা সংযমের মাধ্যমে আল্লাহ নৈকট্যলাভের আশায় সিয়াম সাধন করে থাকেন। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে যেখানে রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য সীমিত করে রাখে, সেখানে বাংলাদেশে ঠিক এর উল্টো। রোজা আসার আগেই ক্রমাগত বাড়তে থাকে দ্রব্যমূল্য। আমাদের দেশের সিংহভাগই মুসলিম। তাই এ মাসে প্রায় সব পরিবারেই বাড়তি একটি চাহিদা থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এই চাহিদা কেন্দ্র করে একশ্রেণির মুনাফালোভী বাজার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে থাকে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করছে, দেখা দিয়েছে চরম মুদ্রাস্ফীতি। ক্রয়ক্ষমতা এমনিতেই সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে। এর ওপর রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের বাড়তি দাম এক ধরনের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতোই।

মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একচেটিয়া বাজারব্যবস্থা শুরু করে দিয়েছেন। বাড়তে শুরু করছে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, তেল, মুড়ি, ছোলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম এবং এক হালি লেবু ১০০ টাকা। বাদ যাচ্ছে না খেজুরও। চিনির দাম ক্রমাগত বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে, সরকার নির্ধারিত দামকে তোয়াক্কা করছেন না ব্যবসায়ীরা। মাছ-মাংসের দামও বেড়ে চলছে জ্যামিতিক হারে। গুটিকয়েক মানুষের কাছে দেশের প্রায় সব মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। পরিকল্পিতভাবে বাজারব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত করা হলে একদিকে যেমন ভোক্তাস্বার্থের হানি ঘটে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। বিগত কয়েক বছরে সরকারের আন্তরিকতা ও নানামুখী পদক্ষেপ সত্ত্বেও রমজানে পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কেন রোধ করা যায়নি, তা খতিয়ে দেখা উচিত। শুধু রমজানে দ্রব্যমূল্য নয়, ঈদের সময় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতেও পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। অন্যদিকে পরিবহন মালিকরা গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে থাকে। ব্যবসায় মুনাফা অর্জন স্বতঃসিদ্ধ ও স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু মুনাফা অর্জনের নামে নীতিজ্ঞানহীন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঘোড়া জনগণকে হতাশার রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি বেড়েই চলছে বাসাভাড়া, পরিবহন-ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের ব্যয়। সরকারি-বেসরকারি সেবার দামও বাড়ছে। ওই অনুপাতে বাড়ছে না মানুষের আয়। ফলে জীবনযাত্রার মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির শিকার প্রধানত শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবীসহ নির্দিষ্ট আয়ের কর্মচারী। মেহনতি মানুষের মজুরি বাড়ে না, কৃষক ফসলের যুক্তিসঙ্গত দাম পান না, কর্মচারীদের বেতন দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অনেক ক্ষেত্রে বাড়ে না। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগতই বাড়ছে। সব মিলিয়ে মধ্যম ও নিম্নআয়ের মানুষ এখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকে জীবনযাত্রার মান কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন, এমনকি অনেকে বাড়তি খাবার কেনাও কমিয়ে দিয়েছেন। মধ্যবিত্ত জীবনের কী যে কষ্ট, তা শুধু মধ্যবিত্তরাই জানেন। লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছুটে চলা নিত্যপণ্যের দামে দিশাহারা সাধারণ ভোক্তারা। বাজার অস্থিতিশীল হওয়া মানেই দেশের বেশিরভাগ মানুষের ওপর চাপ পড়া। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে দেশের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। প্রধান খাদ্যদ্রব্য যেমন চাল, ডাল, আটা, তেল, মাছ, মাংস, শাকসবজি, কাঁচামরিচ ছাড়াও গৃহস্থালির বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়েছে। তবে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের লোকজন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির তাৎক্ষণিক শিকার, মধ্যম আয়ের লোকজনও এর প্রভাব তীব্রভাবেই অনুভব করছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এই সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। দেশের সাধারণ মানুষের এখন নাভিশ্বাস অবস্থা। কালোবাজারি, মুনাফাখোর, মজুদদার প্রভৃতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য দ্রব্যগুলোর মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিদিন এবং ক্রমেই এসব পণ্য সংগ্রহ করা কঠিনতর হচ্ছে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য।

এমতবস্থায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর জোরালো দাবি,সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে নিত্য পণ্য ক্রয় ক্ষমতা মধ্যে আনার জন্য আহ্বান।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট